ইসলামের বদনাম করছে, এমন অশুভ শক্তির চক্রান্ত প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বীজ অঙ্কুরিত হতে দেবে না। তিনি দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে উদ্দীপিত করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানে রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা হয়েছে। ইসলাম কখনো এ ধরনের বর্বরতা সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তি ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দেয়। তিনি বর্বরোচিত এসব হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ ধর্মভীরু, উগ্রবাদী নয়। সুতরাং একটি ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া বালক কী করে এ ধরনের উগ্রবাদের পথে পা বাড়ায়?’ অভিভাবকদের উদ্দেশে এই প্রশ্ন উত্থাপন করে নিজেদের সন্তানদের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জঙ্গিবাদ দমনে সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি এলাকায় জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি গড়ে তুলে আড়ালে-আবডালে ঘাপটি মেরে থাকা জঙ্গি, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং যাবতীয় গোপন তৎপরতা শনাক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় জঙ্গিবাদ দমনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করে দেন।
ভিডিও কনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

No comments:
Post a Comment